রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার মরহুম মৌলভী ফয়েজ আহমেদ ও নূর জাহান বেগমের তৃতীয় সন্তান কাশেম শাহ্ প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন শহরের চকবাজারস্থ বঙ্গবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম কলেজ রোডস্থ কিন্ডারগার্টেন শিশু নিকেতনে। এরপর দুই বছর কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার পর মা-বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী ভর্তি হন এশিয়ার বিখ্যাত দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসায়। সেখান থেকে সফলতার সাথে দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল (হাদিস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। ১৯৯৩ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় তাঁর লেখালেখির হাতেখড়ি। সে বছরই তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় চট্টগ্রামের প্রাচীন দৈনিক পত্রিকা আজাদীর উপ সম্পাদকীয় পাতায়। এরপর চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত শীর্ষস্থানীয় প্রায় সবক’টি দৈনিক ও বিভিন্ন সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকায় তাঁর লেখা কলাম, সমাজ সচেতনতামূলক নিবন্ধ, প্রবন্ধ, নিয়মিত ছাপা হতে থাকে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সংকলনেও তাঁর লেখা নিবন্ধ ও কবিতা গুরুত্বে সাথে প্রকাশিত হয়েছে। লেখালেখির তীব্র আগ্রহ থেকে তিনি সাংবাদিকতায় সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি), চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, নেদারল্যান্ডস প্রেস ইনস্টিটিউট, রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অন্যতম।
জীবনবৃত্তান্ত ও কর্মজীবন
কাশেম শাহ ২০১০ সালে দৈনিক প্রথম আলো’র আঞ্চলিক প্রকাশনা আলোকিত চট্টগ্রাম-এ প্রদায়ক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে চার বছর কর্মরত অবস্থায় ২০০৫ সালের মার্চে সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা দৈনিক আজাদীতে। তিনি একই পত্রিকায় সহ-সম্পাদক ও ফিচার পাতা ‘তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান’ এবং ‘জীবনধারা’ পাতার বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবেও ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন-এ সিনিয়র সহ-সম্পাদক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল চিটাগাং লাইভ-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের স্থায়ী সদস্য কাশেম শাহ এর আগে মাসিক পত্রিকা ‘আলোর মিছিল’-এর বার্তা সম্পাদক ও দ্বি-মাসিক পত্রিকা ‘ঋতুজ’ এর নির্বাহী সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন।
লেখালেখি, সাংবাদিকতার পাশাপাশি ২০০৩ সালে যোগ দেন আন্তর্জাতিক সেবা সংগঠন লায়ন্স ক্লাবে। তিনি ২০০৫-০৬ সালে ক্লাবের ইয়ুথ অর্গানাইজেশন লিও ক্লাব অব চিটাগাং ইম্পেরিয়াল সিটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি লিও জেলার বিভিন্ন দায়িত্ব সফলতার সাথে পালনকালে ২০১১-২০১২ সালে লিও জেলা ৩১৫ বি-৪ বাংলাদেশের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দায়িত্ব পালন শেষে লিও জেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ইম্পেরিয়াল সিটিতে সদস্য হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২১-২২ সালে ক্লাব প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি তরুণ লিও সদস্যদের স্কিল উন্নয়নে নিয়মিত বিভিন্ন ক্যাম্প ও ট্রেনিং সেশন পরিচালনা করেন। তাঁর নেতৃত্বে লায়ন্স ফাউন্ডেশন ভবনে চারবার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে রচনা প্রতিযোগিতা ও রাঙ্গুনিয়ার বেতাগি রোটারি হাইস্কুলে দু’বার লিও লিডারশিপ ক্যাম্প আয়োজন লিও জেলায় আজো অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন।
চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তৃতীয় কাশেম শাহ সাংবাদিকতা ও লিওইজমে অবদানের জন্য লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফউন্ডেশন, এনজিও সংস্থা মমতা, সামাজিক সংগঠন আলোর পথে, সানরাইজ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন-সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন থেকে একাধিক সম্মাননা লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত।