দেবপ্রসাদ দাস দেবু চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলা বৈলতলী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত আধ্যাত্মিক পুরুষ খ্যাতিমান লোককবি মনিন্দ্র দাস এবং স্বর্গীয়া মাতা নির্মলা দাস। দেবপ্রসাদ দাস দেবু চট্টগ্রাম 'এম ইএস' কলেজ (নৈশ) শাখা থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কলেজ জীবনে তিনি পূর্বাশা ছাত্র সংসদের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার প্রথম দিকে জয় বাংলা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর 'এমইএস' কলেজ শাখার উপ—প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন। তিনি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের ইউনিট প্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
জীবনবৃত্তান্ত ও কর্মজীবন
সাংবাদিক দেবু ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট জুনিয়র জয়বর্ধনের উরিরচর পরিদর্শনের ছবি, ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম গণহত্যার ছবি, নোবেল বিজয়ী নেলসন মেন্ডেলা কলকাতায় আসলে সংবর্ধনার ছবি ধারণ করেন এবং ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার ছবি তুলে এ মুক্তিযোদ্ধা চিত্র সাংবাদিকতায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি ৮৫ সালে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার ছিলেন এবং একই বছর জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে ফটোগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন。
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বিজয় মেলায় সংগৃহীত ২৫০টি ছবি নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর অয়োজন করেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবিতে মুক্তিযুদ্ধের উপর চিত্র প্রদর্শনী, লন্ডনে রূপসী বাংলা, উপজাতীয় জনজীবনের উপর আলোক চিত্র প্রদর্শনী করে এ কর্মবীর ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন。
দেবপ্রসাদ দাস দেবু চিত্র সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য বিভিন্নভাবে সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯১-৯২ সালে জাপানের ইউনেস্কো পুরস্কার, ১৯৯৫ সালে বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক সম্মাননা, ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা, ২০০১ সালে মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবীস্থ এম্বেসেডার কর্তৃক সম্মাননা লাভ, ২০০২-০৩ সালে চট্টগ্রাম ফটোগ্রািফক সোসাইটি কর্তৃক সম্মাননা,
২০০৩ সালে জাতীয়ভাবে স্বর্ণপদক, ২০০৪ সালে আলোক চিত্র প্রদর্শনীতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব কর্তৃক সম্মাননা লাভ, ২০০৫ সালে জিসাস সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা পদক, ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বৈশাখী মেলা কমিটির সম্মাননা পদক, ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পুরস্কার, ২০০৮ সালে লন্ডনে বাঙালি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে দেবপ্রসাদ দাস দেবুকে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এছাড়া তিনি ২০০৮ সালে অবসর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কর্তৃক সম্মাননা পুরস্কার, ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন কর্তৃক সম্মাননা পুরস্কার, ২০১১ সালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব কর্তৃক সম্মাননা পুরস্কার, ২০১১ সালে নারায়নগঞ্জ ফটোগ্রাফী সোসাইটি কর্তৃক সম্মাননা পুরস্কার, ২০১৩ সালে ব্রাদার মার্সেল এসসিএস গোল্ড মেডেল সম্মাননা পুরস্কার, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কাউন্সিল কর্তৃক ২১শে সম্মাননা পদক, ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট কর্তৃক সম্মাননা লাভ করেছেন, ২০২০ সালে সন্দীপনা সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্তৃক ২১শে সন্মাননা, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফী সোসাইটি কতৃর্ক সন্মাননা, ২০২২ সালে ২৪ঘন্টা নিউজ অনলাইন পত্রিকা কর্তৃক সম্মাননা, ২০২২ সালে সাংবাদিক ইউনিয়ন কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সন্মাননা, ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশ এবং ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমী থেকে থেকে সন্মাননা পেেয়েছেন。
তাঁর বেসিক ফটোগ্রাফি (সহজ ফটোগ্রাফি শিক্ষা) ট্যুর এন্ড ট্রাভেল গাইড নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সহজ ফটো সাংবাদিকতার উপর তাঁর আরও একটি বই প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি ‘চট্টগ্রামের শেখ হাসিনা’ নামে একটি ফটোঅ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফি সোসাইটির প্রাক্তন সভাপতি, ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফি কাউন্সিলের সদস্যসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন। চিত্র সাংবাদিক দেবপ্রসাদ দাস দেবু কলকাতা, দিল্লি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে অংশ গ্রহণ করেন এবং তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে বেশ কয়েকটি ফটোগ্রাফি ক্লাস ও এনজিওতে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন。
সাংসারিক জীবনে তাঁর স্ত্রী সুপ্রীতি দাস একজন গৃহিনী। পুত্র জয় দাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে এমবিএ পাশ করে ব্যাংকে কর্মরত আছেন। কন্যা তন্বী দাস সিলেট শাহাজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বর্তমানে কানাডায় আছেন।